গাজা যুদ্ধ ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরে জনমতের বড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ১১ আগস্ট সরকার এ সিদ্ধান্ত জানায়। ঐতিহাসিক মিত্র ইসরায়েল এতে অসন্তুষ্ট হলেও, অস্ট্রেলিয়া তাতে খুব একটা শঙ্কিত নয় বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকরা। এর কয়েক দিন আগে সিডনির বিখ্যাত হারবার ব্রিজে হাজারো মানুষ গাজায় শান্তি
প্রতিষ্ঠা ও ত্রাণ সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দুই বছর আগে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইসরায়েলে ঢুকে নজিরবিহীন হামলা চালায়। এর প্রতিশোধে গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ–সমর্থিত একটি সংস্থা বলছে, গাজা নগরীতে দুর্ভিক্ষ চলছে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত বিশেষজ্ঞ মার্টিন কেয়ার মনে করেন, “ইসরায়েলকে অব্যাহত সমর্থন এবং সব দোষ হামাসের ঘাড়ে চাপানোর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।” ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইসরায়েল-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। ইস্যুটি নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিকেরা একে অপরকে কটাক্ষ করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। ইসরায়েল পশ্চিম তীরে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় কূটনীতিকদের ভিসা বাতিল করেছে। বিপরীতে একজন ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার একটি শীর্ষ ইহুদি সংগঠন শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, তবে নজিরবিহীনভাবে নেতানিয়াহুর সমালোচনাও করেছে। দেশটির অনেক ইহুদি মনে করছেন, এ টানাপোড়েন তাঁদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলতে পারে, কারণ গত এক বছরে অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কিছু ইহুদিবিদ্বেষী হামলার ঘটনা ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু ইহুদিদের কাছে গাজা সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল ইস্যু। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ানদের সহানুভূতি দ্রুত ফিলিস্তিনের দিকে ঝুঁকছে। ডেমোসএইউ-এর আগস্টের জরিপে ৪৫ শতাংশ মানুষ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে মত দেন, যা গত বছর ছিল ৩৫ শতাংশ। বিপক্ষে মত দেন মাত্র ২৩ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন করলেও রাজনৈতিক কারণে সরকারিভাবে সতর্ক ছিলেন। তবে জনমতের পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের কারণে তিনি ঝুঁকিহীনভাবে এ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ড তাদের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করেছে, গাজার দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলের প্রতি জনগণের সহানুভূতি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষক চার্লস মিলার বলেন, “গাজার ছবিগুলো আইনপ্রণেতাদের মানসিকতা বদলে দিয়েছে; যেমনটা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও দেখা যাচ্ছে।”
আবাসনের দুরবস্থা, প্রয়োজনীয় খাবারের অভাব এবং নিয়োগচুক্তির লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে ফিজির প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে যান দেশটিতে কর্মরত ২৬ বাংলাদেশি শ্রমিক। গতকাল বৃহস্পতিবার সুভায় ফিজির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে যান এই শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা শুনেছেন এবং অভিযোগের তদন্তবিস্তারিত...