গণভোটের সারসংক্ষেপ
মোট ভোটার: ১২ কোটির বেশি
ভোটার উপস্থিতি: ৬০.২৬%
‘হ্যাঁ’ ভোট: ৪,৮০,৭৪,৪২৯
‘না’ ভোট: ২,২৫,৬৫,৬২৭
এই ফলাফলকে একটি নীতিগত জনসমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে—বিশেষত শাসনব্যবস্থার ভারসাম্য, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রশ্নে।
কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রধান দিকগুলো
১. নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্বিন্যাস
দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামো কার্যত এককেন্দ্রিক ছিল। সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে নির্দিষ্ট কিছু সাংবিধানিক ভারসাম্যমূলক ক্ষমতা
পুনর্বণ্টন করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো একক ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার করা।
২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা
বর্তমান এককক্ষীয় সংসদের পরিবর্তে নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ—দুটি স্তর গঠনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।
নিম্নকক্ষ: সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হবে।
উচ্চকক্ষ: বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
এই কাঠামো আইন প্রণয়নে “দ্বিস্তরীয় পর্যালোচনা” নিশ্চিত করবে, যা নীতিগত ভুল বা তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্ত ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।
৩. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন
বর্তমানে ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যদের আসন হারানোর ঝুঁকি থাকে। সংশোধনের মাধ্যমে দলীয় হুইপের বাধ্যবাধকতা শিথিল হলে এমপিরা নির্বাচনী এলাকার স্বার্থে অধিক স্বাধীনভাবে মত ও ভোট দিতে পারবেন। এতে সংসদীয় বিতর্ক ও নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
৪. সাংবিধানিক পদে নিয়োগে স্বচ্ছতা
নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া সার্চ কমিটি বা সংসদীয় যাচাই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে নির্বাহী প্রভাব কমিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
৫. মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা জোরদার
বাকস্বাধীনতা, ডিজিটাল অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের সাংবিধানিক সুরক্ষা আরও সুসংহত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এতে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার সীমিত করার আইনি ভিত্তি শক্তিশালী হবে।
তুলনামূলক কাঠামো: ভারত ও পাকিস্তান
🇮🇳 ভারত
ভারতের সংসদ দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত:
লোকসভা (নিম্নকক্ষ)
রাজ্যসভা (উচ্চকক্ষ)
লোকসভা সরাসরি নির্বাচিত এবং সরকার এর কাছে দায়বদ্ধ। রাজ্যসভা রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে এবং একটি স্থায়ী কক্ষ।
🇵🇰 পাকিস্তান
পাকিস্তানেও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কাঠামো বিদ্যমান:
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি
সিনেট
সিনেটে প্রতিটি প্রদেশের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে ফেডারেল ভারসাম্য রক্ষা করা হয়।
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ কাঠামো সরাসরি ফেডারেল প্রতিনিধিত্বের মডেল নয়, বরং নীতি-পর্যালোচনা ও বিশেষজ্ঞ সম্পৃক্ততার মডেল হিসেবে পরিকল্পিত।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার করে। পরবর্তীতে প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে “জাতীয় ঐকমত্য কমিশন” ৮৪টি প্রস্তাব তৈরি করে, যার সাংবিধানিক অংশ ছিল এই গণভোটের মূল বিষয়।
বিশ্লেষণাত্মক পর্যবেক্ষণ
এই গণভোটের ফলাফলকে তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা যায়:
প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ বনাম ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন
সংসদীয় স্বাধীনতা বনাম দলীয় নিয়ন্ত্রণ
আইনগত সুরক্ষা বনাম প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রাধান্য
যদি বাস্তবায়ন কার্যকরভাবে হয়, তবে এটি বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত জবাবদিহিতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অধিকারের সুরক্ষা বৃদ্ধির দিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে বাস্তবায়ন-পর্বের আইন প্রণয়ন, উপ-আইন, এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর ও পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে
শুক্রবার ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকা এক বার্তায় জানায়, নির্বাচনী জয়ের জন্য তারেক রহমান ও বিএনপিকে অভিনন্দন এবং দেশের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা।
বার্তায় আরও বলা হয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নিরাপত্তাসহ পারস্পরিক অগ্রাধিকারমূলক খাতে নতুন
মানবিক ও উন্নত দেশ গড়তে দল-মত-নির্বিশেষে সবার মান-ইজ্জত ও অধিকারের সুরক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম দিন ফজরের নামাজ আদায় করেই জামায়াতের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনার সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে—সে জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি নিরাপদ